
এম আব্দুর রাজ্জাক,স্টাফ রিপোর্টার –
অভিযোগকারী মোঃ মাসুদ রানা (৪২), পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাং-বেলকুচি, ইউপি-ধুনট সদর, থানা-ধুনট, মার্কেটের ১ম তলায় মাসুদ টেলিকম নামে তার একটি মোবাইল ফোনের দোকান আছে।
বাদী ২৯/০৯/২০২৬ ইং তারিখে জেলা-বগুড়া থানায় এজাহার দায়ের করেন যে, ধুনট বাজার ইসামতি ডিজিটাল কমপ্লেক্সে নৈশ্য প্রহরী মোঃ সুলতান হোসেন গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল অনুমান ৭ টার সময় মাকের্টের সকল তারিখ রাত অনুমান সাড়ে ৯ টার সময় দোকান বন্ধ করে বাড়ীতে যায়। ইসামতি ডিজিটাল কমপ্লেক্সে মার্কেটের দোকানের সাটার, তালা চেক করে সঠিক আছে দেখে ডিউটি শেষে নিজ বাড়ীতে চলে যায়। বাড়ীতে গিয়া তাহার ফেলে। যাওয়া বাসার চাবি নেওয়ার জন্য পূন্যবায় সকাল অনুমান ৮ টা ১৫ মিনিটে মার্কেটে এসে অজ্ঞাতনামা ৯ থেকে ১০ জন
লোক পিঠে ঝুলানো কলেজ ব্যাগ নিয়ে মার্কেটের ভিতর থেকে বের হতে দেখে তার সন্দেহ হওয়ায় সে মার্কেটের ভিতর
গিয়ে বাদীর মাসুদ টেলিকম নামীয় মোবাইল ফোনের দোকানের স্যাটারের তালা ভাঙ্গা এবং সাটার খোলা দেখে বিষয়টি।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাদীকে জানায়। বাদী দ্রুত দোকানে এসে দোকানের সমস্ত মালামাল এলোমেলো এবং দোকানের গ্যালারীতে সাজানো বিভিন্ন ব্যান্ডের ৯৪টি এ্যান্ড্রুয়েড মোবাইল ফোন নেই। যাহার অনুমান মূল্য ৩৫ লক্ষ টাকা। উক্ত বিষয়ে বাদী লিখিত এজাহার দায়ের করলে ধুনট থানার মামলা নং-২৬, তাং-৩০/৯/২০২৬খ্রিঃ ধারা-৩৮০/৪৬১ পেনাল কোড রুজু করতঃ মামলার তদন্তভার এসআই নিরস্ত্র/মোঃ ওসমান গনী এর উপর অর্পন করা হয়। পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম এর দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (অপরাধ), বগুড়া জমাদার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান এর তদারকীতে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, শেরপুর
সার্কেল, শামস-ই-তাবরীজ এর সার্বিক সহযোগীতা ও অফিসার ইনচার্জ, মো. আতিকুল ইসলাম, ধুনট থানা, বগুড়ার নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস টিম ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার প্রাপ্ত তথ্য, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় সোর্সের দেওয়া তথ্যমতে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল অনুমান ১০ টা ১৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সহায়তায় সিরাজগঞ্জ যমুনা পশ্চিম সেতু থানার টোল প্লাজায় শ্যামলী পরিবহন একটি বাস তল্লাশীকালে অত্র মামলার ঘটনায় চুরি যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪ টি স্মার্টফোন, যাহার অনুমান মূল্য ৩৫ লক্ষ টাকা উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ১নং। মোঃ আল আমিন (৩০), পিতা মৃত আব্দুল কুদ্দুস, সাং-সৈয়দপাড়া, থানা-বায়েজীদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম, ২নং। মোঃ আক্কাস আলী (৩৫), পিতা মৃত হবু মিয়া, সাং-সিএমপি বাকুলিয়া, থানা-বাকুলিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম, ৩নং। মোঃ ইমরান (৩০), পিতা-মৃত হারুন মিয়া, সাং-চর মদিনা নগর, থানা-রায়পুরা, জেলা-নরসিংদী, ৪নং। মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), পিতা মৃত শামছুল আলম, সাং-চব্বাস মোল্লাবাড়ী, থানা-কসবা, জেলা ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, ৫নং। মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৩), পিতা মৃত আব্দুল খালেক, নওয়াবপুর, থানা-চান্দিনা, জেলা-কুমিল্লা, ৬নং। মোঃ আলা উদ্দিন (২৫), পিতা মৃত বাচ্চু মিয়া, সাং-কামাল্লা, থানা-
মুরাদপুর, জেলা-কুমিল্লা, ৭নং। মোঃ ইস্রাফিল রহমান (২৭), পিতা মৃত আজিজুর রহমান, সাং-নুরপুর, থানা-লালমাই, জেলা-কুমিল্লা, ৮নং। মোঃ হৃদয় (৩৪), পিতা মৃত ইব্রাহীম সাং-ইসমাইল ফয়েজো রোড, থানা-কোতয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম দেরকে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত আসামীদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অত্র মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে
জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সিডিএমএস যাচাই করে আসামীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলার তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আসামীদের বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।
উদ্ধারকৃত ৯৪টি মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রকৃত মালিকের শনাক্তকরণ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে হস্তান্তর করা
হবে।
জনস্বার্থে অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, বগুড়ার এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।