
ডেক্স রিপোর্ট :
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বামপন্থী লুলা ডি সিলভা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। লুলার ৮১তম জন্মদিনের আগের দিন তাঁর জন্য ব্রাজিলের জনগণের এক বিশাল উপহার। তিনি চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। লুলা পেয়েছেন ৫২ শতাংশ ভোট, আর তাঁর প্রতিপক্ষ ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ ভোট। একজন কারখানা শ্রমিক থেকে তিনি বিশ্বের একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের চতুর্থবারের মত রাষ্ট্রনেতা হলেন।
লুলার এই বিজয় শুধু লাতিন আমেরিকা নয় সমগ্র বিশ্বের জন্য এক বড় খবর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও তিনি ব্রাজিলে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ব্রাজিল লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক শক্তি এবং ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি দুর্নীতিগ্রস্ত, চরম ডানপন্থী বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল। এই পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
বলসোনারো বলেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ব্রিকসে ব্রাজিলের ভূমিকা কমিয়ে আনবেন। শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের বিপরীতে ব্রাজিলের অলিগার্ক ও বৃহৎ ভূমির মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করবেন, বিশ্বব্যাপী ডলারের আধিপত্য বজায় রাখবেন ও মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে বিরল রিয়ার আর্থের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ লুটে নেয়ার সুযোগ করে দেবেন।
অন্যদিকে, লুলা একটি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং বরাবরই শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতি জোটনিরপেক্ষতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এবং ব্রিকস গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা।
লুলা চীন এবং গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্রাজিলের অংশীদারত্ব আরও গভীর করবেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রূপান্তরের এক প্রধান নেতা হিসেবে বিশ্বব্যাপী মার্কিন ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। তাঁর এই অবস্থান মার্কিন শাসকদের ঘুম হারাম করবে।