
জহির রায়হান কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুরের নিভৃতপল্লী এখন তেজপাতার মিষ্টি সুবাসে সুবাসিত । মেঠোপথের ধার, ক্ষেতের আইল, বাড়ির আঙিনা কিংবা অনাবাদি পতিত জমি—যেদিকেই চোখ যায়, শুধুই তেজপাতা গাছের সবুজ সমারোহ। কম খরচ, নামমাত্র পরিচর্যা আর দীর্ঘমেয়াদি ভালো মুনাফা থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকদের জীবনে এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন। ইতোমধ্যে এলাকাটি পরিচিতি পেয়েছে ‘তেজপাতার গ্রাম’ হিসেবে। সরেজমিনে টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাজেমসকুর, চৈতারমোড় ও রাজীব গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, তেজপাতা চাষকে ঘিরে বইছে এক নতুন কর্মচাঞ্চল্য।
বাজেমসকুর গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন জানান, মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচে ৬০ শতক জমিতে তিনশো বিশটি গাছ লাগিয়ে এ পর্যন্ত তিনি দুই লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন। একই গ্রামের কৃষক আশিকুর জানান, ধান ও সবজি চাষ ছেড়ে তিনি এখন পুরোদমে তেজপাতা চাষ করছেন। প্রথম বছর ৪ মণ বিক্রি করলেও এখন বছরে তার বাগান থেকে মিলছে প্রায় ১৫-১৬ মণ তেজপাতা। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত তেজ পাতা পাওয়া যায়। এদিকে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এই তেজপাতা পাড়ি জমাচ্ছে দূর-দূরান্তে। চৈতারমোড় এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, কাউনিয়া থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩শ’ বস্তা তেজপাতা ঢাকায় পাঠানো হয়। মান ভালো হওয়ায় স্কয়ার, প্রাণ, পুষ্টি, তীর ও ইস্পাহানির মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো বাগান থেকেই সরাসরি তেজপাতা কিনে নিচ্ছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, দুবাই ও সিঙ্গাপুরেও রপ্তানি হচ্ছে কাউনিয়ার এই তেজপাতা।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রায় ৬৫ হেক্টর জমিতে তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সুযোগ থাকায় এটি কৃষকদের কাছে অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে। মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে তেজপাতা চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
এ/জে