
স্টাফ রিপোর্টার: আত্মগোপনে চলে গেছেন টঙ্গীতে শিক্ষক দ্বারা নির্যাতিতা ছয় বছরের শিশুর পরিবার। ২৩ অক্টোবর থেকে এই পরিবারের ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় আসামি হওয়ায় তিনি আত্মগোপনে গেছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৯টায় খোঁজ নিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
রবিবার রাত ৯টায় রুমির বাসার নিরাপত্তা কর্মী হাবিবুল্লাহ জানান, ২৩ তারিখ রুমি সাহেব ফ্ল্যাটে তালা মেরে চলে গেছেন। এরপর আর আসেন না। মামলার কারণে হয়তো তিনি অন্য কোথাও আছেন।
জানা যায়, টঙ্গীর কলেজ গেটের আউচপাড়া এলাকার ৭৪/১ এসএস একাডেমি রোডে ১০ তলা ভবনের ছয় তলায় একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন নির্যাতিতা শিশুর পরিবার। এই ফ্ল্যাটে থেকে টঙ্গীর সফিউদ্দিন রোডের মধ্য আউচপাড়ার অভিযান ১৯৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত শিশুটি। কিছুদিন আগে শিক্ষক মোসলেম আহমদ মেয়েটিকে নিপীড়ন করে। এরপর থেকে আর সে মাদরাসায় যায় না।
২১ অক্টোবর শিশুর বাবা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পর দেয়। এরপর মেয়েকে নিপীড়নের ঘটনায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ২৩ অক্টোবর মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মোহাম্মদ আলমাছ হোসেন শিশুর বাবা শাহজালাল রুমিকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরো ১৫ জনের নামে লুটপাট, মারধর ও ভাঙচুরের মামলা করেন। এই মামলার পর থেকে রুমি পরিবার নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহজালাল রুমিকে একাধিকবার ফোন করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
রবিবার সকালে জিএমপি ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের শেয়ার করা সংবাদ ও বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানের খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মামলা হলেই প্রথমেই আসামি গ্রেপ্তার আইনের দৃষ্টিতে জরুরি নয়। জরুরি হলো মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। এই মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।’
তিনি আরো জানান, উভয় মামলাই গুরুত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। দুটি মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম যথাযথ নিয়মে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় যাচাই না করে পুলিশ কমিশনার, কোনো তথ্য প্রচার না করার এবং গুজব ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ/জে