
মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক হোটেল কর্মী এবং এক নৃত্যশিল্পীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে রাতের মধ্যে ঘটা এই দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুটি ঘটনার একটিতে হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত মিলেছে এবং অন্যটি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার সায়াদাতিয়া সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুন (১৯) নামে এক তরুণী হোটেল কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত খুশি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আদালতপুর গ্রামের শহিদুল মোড়লের মেয়ে এবং স্থানীয় ‘আন্তরিক হোটেল’-এর কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও বাড়ির মালিক জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রিকশাচালক সোহাগ হোসেন নিজেকে খুশির স্বামী পরিচয় দিয়ে মাসিক এক হাজার টাকায় বাসাটি ভাড়া নেন। গত মঙ্গলবার রাতেও তাঁদের একসঙ্গে ঘরে ফিরতে দেখা গেছে। বুধবার সকালে ঘরের প্রধান দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে পেছনের খোলা দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে মেঝেতে খুশির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খুশির গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়ার গভীর দাগ রয়েছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই কথিত স্বামী সোহাগ পলাতক রয়েছে।
পাগলাকানাইয়ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহ পৌর এলাকার আরাপপুর মাস্টারপাড়া থেকে সুবর্ণা (৩০) নামে এক নারী নৃত্যশিল্পীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুবর্ণা জেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং স্বামী পাভেলের সাথে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় রান্নার গ্যাস কেনা এবং অন্যান্য পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর ফ্যানের সাথে সুবর্ণার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। লোকমুখে এটি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
একই দিনে দুটি রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাহফুজ হোসেন এবং ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান সহ সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান জানান, উভয় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। খুশি খাতুনের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তার কথিত স্বামীকে আটকে অভিযান চলছে। অন্যদিকে সুবর্ণার মৃত্যুর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই দুটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।