বৃহস্পতিবার ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩

দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে নার্সকে মারধরের অভিযোগ

[print_bangla]

মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার-

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে এক নার্সকে মারধর ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ক্লিনিকের রিসেপশন ফ্লোরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নার্স কলি রায়। ভুক্তভোগী কলি রায় জানান, গত ২০ জুলাই তিনি দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নার্স হিসেবে যোগ দেন। রোববার সকালে কুলসুম নামে এক নারী ক্লিনিকে ভর্তি হন। দুপুর ১২ টার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের পর নবজাতকের জন্য ডায়াপার ও কে-ওয়ান ইনজেকশন এবং প্রসূতির জন্য বেল্ট, ব্যথানাশক ভলটালিন ইনজেকশন ও ন্যাপকিনের প্রয়োজন হয়। এসব সামগ্রী ক্লিনিকে ‘প্যাকেজ’ নামে পরিচিত বলে জানান তিনি।
কলি রায়ের অভিযোগ, এসব সামগ্রী ক্লিনিকের বাইরে তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ থাকলেও রোগীর স্বজনদের ক্লিনিক থেকেই সেগুলো কেনার জন্য নার্সদের ওপর চাপ দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোববার কুলসুমের স্বজনেরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্লিনিক পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুল ক্ষুব্ধ হন এবং রোগীর স্বজনেরা কেন বাইরে থেকে এসব সামগ্রী কিনেছেন, তা নিয়ে তার সঙ্গে রাগারাগি করেন। এ সময় বাবুলের ছোট মেয়ে স্নেহাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনিও তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন কলি। কলি রায় অভিযোগ করে বলেন, একপর্যায়ে ক্লিনিক পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুল তার মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করেন। পরে তিনি ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলায় গেলে সেখানে বাবুলের মেয়ে ও চিকিৎসক ডা. শিখা মনি তার সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে কথা বলেন। এ সময় তাকে পরদিন থেকে ক্লিনিকে না আসার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কলি রায় বলেন, তিনি তার পাওনা বেতন পরিশোধ করে দিলে চাকরি ছেড়ে দেবেন বলে জানান। অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নার্সের করা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ভুক্তভোগী নার্সকে আইনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ক্লিনিকের সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো দায়িত্ব রয়েছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। উল্লেখ্য, এর আগেও ক্লিনিকটির মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুল ও তার মেয়ে ডা. শিখা মনির রূঢ় আচরণের কারণে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকজন নার্স চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে নার্সকে মারধরের অভিযোগ

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top