
বিশেষ প্রতিনিধি
রাধাকৃষ্ণের অনন্য বিগ্রহ ও ধর্মীয় আয়োজনে মুখরিত পাঁচ দিনের উৎসব
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের মাকালকান্দি গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ৫৬তম ঝুলনযাত্রা উৎসব নানা ধর্মীয় আয়োজন ও ভক্তদের মিলনমেলার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রয়াত নীলকণ্ঠ বৈষ্ণবের বাড়িতে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র ও নবীগঞ্জ সবুজ কুঁড়ি কে.জি. অ্যান্ড হাইস্কুলের অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র লাল চৌধুরীর সার্বিক সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী এ ঝুলনযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। গত বৃহস্পতিবার ধর্মীয় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
উৎসবকে ঘিরে মাকালকান্দি গ্রামে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। প্রতিদিন গীতাপাঠ, নামসংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক রামকৃষ্ণ তালুকদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অসংখ্য ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
শিমুল তুলায় তৈরি রাধাকৃষ্ণের অনন্য বিগ্রহ
এবারের ঝুলনযাত্রা উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রয়াত নীলকণ্ঠ বৈষ্ণবের নিজ হাতে তৈরি রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ। স্থানীয়দের দাবি, শিমুল তুলা ব্যবহার করে অত্যন্ত নিপুণভাবে তৈরি এই বিগ্রহটি বিরল ও ব্যতিক্রমী। পাশাপাশি কাঠ দিয়ে তৈরি পঞ্চতত্ত্বের বিগ্রহও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
স্থানীয় এক শিষ্যের কাছ থেকে জানা যায়, নীলকণ্ঠ বৈষ্ণব ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনায় নিবেদিতপ্রাণ। তাঁর শিষ্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কখনো কখনো মাটির ওপর শূন্য অবস্থায় হাতে প্রদীপ নিয়ে নৃত্য করতেন। তাঁর এমন আধ্যাত্মিক সাধনা ও ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডের নানা স্মৃতি আজও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে রয়েছে।
ওই শিষ্যের দাবি, শিমুল তুলা দিয়ে তৈরি রাধাকৃষ্ণের এমন বিগ্রহ দেশের অন্য কোথাও তৈরি হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এ কারণে নীলকণ্ঠ বৈষ্ণবের হাতে তৈরি বিগ্রহগুলো শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
উৎসবের আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছরই ঝুলনযাত্রার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি, ভক্তি ও ঐতিহ্যের এই আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন তারা।