বৃহস্পতিবার ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩

নলতায় শিক্ষাঙ্গন থেকে দক্ষিণবঙ্গের উজ্জ্বল নক্ষত্র আনোয়ারুল হকের স্মৃতি বিজড়িত বিদায়

[print_bangla]

সোহরাব সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার:

দক্ষিণ বঙ্গের একটি আলোক উজ্জ্বল শিক্ষাঙ্গন সাতক্ষীরার নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একজন প্রধান শিক্ষকের স্বপ্ন, সৃজনশীলতার প্রকাশ পায় সেই স্কুলের কর্মযজ্ঞ পরিচালনা ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। নলতা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ক্ষেত্রে ঠিকই সেটি প্রতিফলিত হয়েছে। একটা স্কুলের ক্যাম্পাস দেখে হঠাৎ বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি প্রাইমারি স্কুল। স্কুলের চার থেকে পাঁচটি বিশাল ভবন, স্বপ্নের মত সুসজ্জিত পরিবেশ, ইতিহাস ঐতিহ্য খচিত বিভিন্ন দেয়াল ও স্মৃতিস্তম্ভ, একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ১৪’শ থেকে ১৫’শ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা সব মিলিয়ে এ যেন যেন এক অনন্য, অসাধারণ, বিরল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তিল তিল করে সাজিয়েছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক। তিনি পরিবারকে সময় না দিয়ে, প্রতিটি সময়, প্রতিটি স্বপ্ন বুনেছেন এই প্রাঙ্গনে। এজন্য প্রতিটি মাটি ও বালুকণায় ফুটে উঠেছে তাঁর সেই আলোকময় স্বপ্ন। আর এভাবেই তিনি দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষাঙ্গনের একজন তারকা খচিত আলোকবর্তিকা। যার বিদায়টা বড়ই বেদনাবিধুর।
দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অবশেষে অবসর নিলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৭৪ নম্বর নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই উজ্জ্বল নক্ষত্র সম প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন সহকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বিদায়ের দিনে শিক্ষাঙ্গন ভারী হয়ে ওঠে। সোমবার নলতা অডিটরিয়ামে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
দীর্ঘদিনের কর্মস্থল, প্রিয় সহকর্মী এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখান, সঠিক পথের সন্ধান দেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আনোয়ারুল হকও তাঁর কর্মজীবনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে কাজ করেছেন। বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হকের দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদের অনেকেই বলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন তাঁদের কাছে অভিভাবকের মতো। তাঁর স্নেহ, শাসন ও পরামর্শ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পথ দেখিয়েছে। তাই প্রিয় শিক্ষকের বিদায় তাঁদের কাছে একই সঙ্গে আনন্দের ও বেদনার।
বক্তারা আনোয়ারুল হকের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও অবসরজীবনের সুখ-শান্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর শিক্ষা ও মূল্যবোধের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সহকর্মী, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটানো সময় তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অধ্যায়গুলোর একটি। অবসরের পরও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শেষে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান উপস্থিত শিক্ষক, বতর্মান শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তবে আনুষ্ঠানিক বিদায় হলেও তাঁদের হৃদয়ে আনোয়ারুল হকের জন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আজীবন অমলিন থাকবে। এই শিক্ষাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায় হলেও, তিনি প্রতিটি অন্তরে প্রতিটি হৃদয়ে আজীবন অম্লান হয়ে থাকবেন। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নলতায় শিক্ষাঙ্গন থেকে দক্ষিণবঙ্গের উজ্জ্বল নক্ষত্র আনোয়ারুল হকের স্মৃতি বিজড়িত বিদায়

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top