
নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট ১ আগস্ট ২০২৬
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে সুদৃঢ় সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো সামরিক স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা কোনো অপশক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভা পরিচালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সঠিক সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিএনপির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ১৯ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জন। নব্বইয়ের দশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্র ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
নারীশিক্ষার প্রসার, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্কারে বিএনপির অবদানের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১/১১-পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র চরম সংকটে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে তা ফ্যাসিবাদের রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম শুরু হয়েছে, তার ভিত্তিতেই আধুনিক, মানবিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা কোনো অপশক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য সাংবিধানিক ধারা ও পদ্ধতি সংস্কারের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইমাম, মুয়াজ্জিন, বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিত ও উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও ভাতা প্রদানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসী এবং সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের চর্চা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান বক্তা বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি অনুসরণ করে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে সংকটময় সময়ে দেশপ্রেমিক ও স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বাধীনতার পর দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন ছিল, তখন তাঁর নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায় এবং চাল রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কৃষি, শিল্প, পররাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের নেওয়া উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য জাতীয় চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এমপি ও ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সহ-ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।