বুধবার ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩

নিভৃতচারী এক শিক্ষানুরাগীর গল্প ” আলহাজ্ব সোহেল আহমদ

[print_bangla]

এম এ রশীদঃ

আলহাজ্ব সোহেল আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার ২ নং চারখাই ইউনিয়ন এর কাকুরা, সাফা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে জমশেদ আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি, সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচ এস সি ও সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। কলেজে লেখা পড়ার সময় প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন, তাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ম,আ,মুক্তাদির ও মদনমোহন কলেজের জনপ্রিয় ভিপি শাহাবুদ্দিনের সাথে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিলো।

তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়ে বাবার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা পরিচালনা করে সফলতা পান, আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা তাঁকে সেখানকার কমিউনিটি ও মাতৃভূমির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে সূযোগ এনে দেয়, তারই ফলশ্রুতিতে তার পিতার নামে ” বদরুল হক চৌধুরী কল্যাণ ট্রাষ্ট ” ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করে দেশে বিদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে ও মানুষ কে সাহায্য করে আসছেন। এ ট্রাষ্টের মাধ্যমে তিনি চারখাই এলাকায় প্রতিবছর বৃত্তি ও আর্থিক প্রণোদনা নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এ দশকের প্রথম দিকে চারখাই এলাকার অনেককে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রখার কারণে, চারখাই এলাকার মানুষ তাঁকে ভালোবাসার চোখে দেখে।

তিনি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থ ও বিল্ডিং নির্মান করে দিয়েছেন, যেগুলোর মধ্যে আছে, জমশেদ আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় সৈয়দা ফারহানা হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, চারখাই উচ্চ বিদ্যালয়, দুবাগ আইডিয়াল স্কুল, দক্ষিন মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, আল- ইমদাদ উচ্চ বিদ্যালয় গোলাপগঞ্জ,মডেল হাই স্কুল, সিলেট, আল আমিন কিন্ডারগার্টেন কাকুরা। উল্লেখ্য এ বিদ্যালয় সমূহের তিনি স্থায়ী দাতা সদস্য। বিল্ডিং নির্মান করে দিয়েছে নীচের প্রতিষ্ঠান সমূহে, পইল্গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারহাল ডিগ্রি কলেজ, শাহগলি জকিগঞ্জ, সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, খাড়াভরা দুবাগ। তাছাড়া কাকুরা বাজার জামে মসজিদ,চারখাই কেন্দ্রীয় জামেমসজিদ, রহমতাবাদ আলীম মাদ্রাসা, মুশাহিদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, হাটুবিল মাদ্রাসা বারহাল, সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসায় তাঁর দান স্মরণ করার মত। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে অনেক কে সাহায্য করে থাকেন যা অপ্রকাশিত থাকে।

আসলে চিত্ত ও বিত্তের মিল না হলে একজন মানুষের পক্ষে দান করা সম্ভব হয় না, সোহেল আহমদ চৌধুরী একজন এ ধরনের মানুষ বলেই অকাতরে দান করে যাচ্ছেন। তাঁর পরিবারের সবাই বিদেশ থাকা সত্ত্বেও শেকড়ের প্রতি তাঁর যে টান, সত্যিই প্রশংসনীয় ও শ্রদ্ধার।

সুতরাং তাঁর মানুষ ও শিক্ষার প্রতি এ অনুরাগ তাঁকে মানুষের মাঝে স্মরণীয় করে রাখবে বংশ পরম্পরায় যুগ যুগান্তরে।

স্যালুট সোহেল চৌধুরী বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে আপনার কাজের মাধ্যমে। আশা অবদান চালিয়ে যাবেন জীবন পর্যন্ত শিক্ষায় ও মানব সেবায়।
পরিশেষে সুন্দর, সূস্থতার সাথে পারিবারিক সফলতা কামনা রইলো।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নিভৃতচারী এক শিক্ষানুরাগীর গল্প " আলহাজ্ব সোহেল আহমদ

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top