
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা ১০টি থেকে কমিয়ে ৫টিতে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ৫টি সিমের সীমা এখনো কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।
এর আগে দেশে একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নিবন্ধনের সুযোগ ছিল। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সেই সীমা কমিয়ে ১০টিতে নির্ধারণ করে। অতিরিক্ত সিম থাকলে তা ডি-রেজিস্ট্রেশন অথবা মালিকানা পরিবর্তনের জন্য গ্রাহকদের সময় দেওয়া হয়।
বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে একটি এনআইডির বিপরীতে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম রাখার সুযোগ বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত সিম বন্ধ বা মালিকানা পরিবর্তন না করলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
২০২৫ সালের শেষ দিকে একজন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা আরও কমিয়ে সর্বোচ্চ ৫টিতে নামানোর উদ্যোগের কথা সামনে আসে। তখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন সীমা কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিটিআরসি এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এনআইডি প্রতি সিমের সংখ্যা ৫টিতে কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার খবর সঠিক নয় এবং এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তিকর।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এক এনআইডির বিপরীতে সিমের সংখ্যা ১০টি থেকে ৫টিতে কমানোর পরিকল্পনা স্থগিত রাখার খবরও প্রকাশিত হয়।
ফলে ৫টি সিমে নামানোর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও সেটিকে কার্যকর নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে বিটিআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।
এক এনআইডির বিপরীতে সিমের সংখ্যা সীমিত করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মোবাইল সংযোগের অপব্যবহার রোধ, গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং অপরাধ ও প্রতারণায় ব্যবহৃত সিমের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।
এক ব্যক্তির নামে অতিরিক্ত সংখ্যক সিম নিবন্ধিত থাকলে সেগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে সিম নিবন্ধনের সংখ্যা সীমিত করার পাশাপাশি গ্রাহকের পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধিত সংযোগের ওপর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কতটি মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত রয়েছে, তা গ্রাহক যাচাই করতে পারেন। বিটিআরসির NEIR ব্যবস্থার মাধ্যমে এনআইডির শেষ চার সংখ্যা ব্যবহার করে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের তথ্য যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।
নিজের নামে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা ব্যবহার করছেন না এমন সিম থাকলে সেগুলো যাচাই করে ডি-রেজিস্ট্রেশন অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়া যেতে পারে।
বর্তমানে আলোচনার মূল বিষয় হলো, এক এনআইডির বিপরীতে সিমের সর্বোচ্চ সংখ্যা ১০টি থেকে কমিয়ে ৫টিতে নামানোর উদ্যোগ। তবে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৫টি সিমের সীমা কার্যকর হয়েছে এমন নিশ্চিত নতুন সরকারি ঘোষণা পাওয়া না গেলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
অর্থাৎ, বর্তমানে কারও নামে ১০টি বৈধ সিম থাকলে সেগুলো থেকে ৫টি রেখে বাকি সিম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এমন তথ্য নিশ্চিতভাবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
তবে সরকার ও বিটিআরসি নতুন করে ৫টি সিমের সীমা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিলে অতিরিক্ত সিম বন্ধ, ডি-রেজিস্ট্রেশন অথবা মালিকানা পরিবর্তনের জন্য গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হতে পারে।
তাই নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কতটি সিম নিবন্ধিত রয়েছে, তা এখনই যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় সিম থাকলে ডি-রেজিস্ট্রেশন করে রাখার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।