
হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার দিনক্ষণ গণনা শুরু। এই উৎসবের প্রধান উপজীব্য প্রতিমা। আর এই উৎসবকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ১২টি পূজা মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
দেবী দূর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীকে আকৃতি দিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন তারা। রাত দিন চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পী আর সহযোগিরা মিলে বানাচ্ছেন দূর্গার প্রতিমা। মাটি আর খড় পানি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে এসব প্রতিমা। এরপর এতে দেওয়া হবে রং।
এক সেট প্রতিমার জন্য দেবী দুর্গা ও তার চার সন্তান সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীকে বানানো হয়ে থাকে। পাশাপাশি থাকে অসূর, সিংহ, হাঁস, প্যাঁচা ও সাপ। সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সেখানে কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। কারিগর সুভাষ চন্দ্র মালাকার বলেন, পূজার জন্য সাধারণত ২ মাস আগে থেকে কাজ শুরু করতে হয়।
আমাদের প্রতিমার কাজ চলছে। বর্তমানে মাটি, রং, বাঁশের দাম বেড়ে গেছে। তাই খরচও বেড়েছে প্রচুর। কোদালিয়াপাড়া মন্দির কমিটির সেক্রেটারি সুষেন দেবনাথ জানান, প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা শুরুর পর থেকেই এলাকায় সম্প্রীতি ও মিলনের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। বামনপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি দিজু বিশ্বাস বলেন, প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ, এখন আলোকসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও সার্বিক শৃঙ্খলার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যাতে শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হতে পারে, সে লক্ষ্যেই সার্বিক তদারকি চলছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত বলেন, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মহালয়াতে চন্ডী পাঠের মাধ্যমে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। এরপর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার থেকে শুরু হবে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব।