
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকাসহ সারাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি শান্তিনগরে হামলার শিকার চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ দেশের অন্যান্য মহানগর ও জেলাগুলোতে চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি শান্তিনগরে চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর সংঘবদ্ধ একটি চাঁদাবাজ চক্র তার ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এবং অপরজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে অবস্থানকালে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে অপরাধীচক্র গড়ে তোলে। বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বিত্তশালী পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা পাঠানো এবং পরে শারীরিক হামলা চালিয়ে চাঁদা আদায় করাই ছিল চক্রটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতার বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা নয়, এসব অপরাধের সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত বা সহযোগিতা করলে তাদের তালিকাও করা হচ্ছে। অপরাধী কিংবা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।
চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তাঝুঁকি অনুভব করলে পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দেশের যেকোনো নাগরিক শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করলে তার আবেদনও বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে গিয়ে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার চিকিৎসক ডা. এ কে এম আমিনুল হকের খোঁজখবর নেন।