শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিদ্যুৎ গেলে রোগীদের হাসফাসঃ টর্চ -মোবাইল জ্বালিয়ে চিকিৎসা সেবা

[print_bangla]

 

জহির রায়হান কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ

কাউনিয়া উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ গেলে ভূতরে অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন টর্চ লাইট ও মোবাইলের লাইটেই ডাক্তার, নার্স ও রোগীদের চিকিৎসা সেবা একমাত্র ভরসা হিসেবে দেখা দেয় । বর্তমানে লোডশেডিং এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গরমে ও রাতে হাসপাতালের রোগীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ উপজেলার প্রায় চার লাখ  জনগণের জন্য নির্মিত এ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে ৫০ কেভি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর থাকলেও অজ্ঞাত  কারণে ৩ বছর ধরে তা চালু করা হচ্ছে না । কোন কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তীব্র গরমে ও রাতে অন্ধকারে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাতের বেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলে  মোবাইল ও টর্চ লাইট এর আলোতে সেবা নিতে আসা রোগীদের জরুরী বিভাগে ড্রেসিং ও সেলাইয়ের কাজ চলে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালে  ভর্তি হওয়া ও সেবা নিতে আসা রোগী  ও স্বজনদের  গরমে হাস ফাস করতে দেখা যায় । এমন কী চিকিৎসক, নার্স,ওয়ার্ডবয় সহ সকল কর্মচারীকে দূর্ভোগে পড়তে হয়।
বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়,  কোন কারণে  বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায়  রোগীদের স্বজনরা হাতপাখা, কাগজের পাখা ও কাপড় নাড়িয়ে বাতাস করে রোগীদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের দাবি,হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের কথা চিন্তা করে লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর, বা অন্য কোনো উপায়ে ফ্যান গুলো চালানো ও রাতে আলোর ব্যবস্থা করা, যাতে অন্তত রোগীদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।

এ উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ সরকারি হাসপাতালের জেনারেটরটি প্রায় ৩ বছর আগে মেরামতের   জন্য  দেওয়া হলেও তা অজ্ঞাত কারণে মেরামত করা হয়নি। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি মেরামত করার জন্য তেমন কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে একটি সূত্রে জানাগেছে। হাসপাতালে রাতের বেলা আইপিএস চালু করা হলেও তা দিয়ে কোন ফ্যান চলে না। বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে আইপিএস ব্যাটারী ঠিকমত চার্জ না হওয়ায় সামান্য কিছু সময় আইপিএস চালু থাকার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। তখন টর্চ লাইট ও মোবাইল ফোনের লাইট চালিয়ে প্রাথমিক কাজ সারা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া  রোগীর  স্বজনরা জানান, প্রতিদিন কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়, এসময় শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নানা বয়সের রোগীদের খুব কষ্ট হয়। হাসপাতালে এসে সুস্থ হওয়ার চেয়ে গরমে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তাদের রোগীরা।  রোগীদের গরম থেকে  স্বস্তির জন্য যার হাতের কাছে যা পাচ্ছেন তা নাড়িয়েই বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
নাজিরদহ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আলামিন মিয়া বলেন, হাসপাতালে  ইমারজেন্সি বিভাগে আসার পর শরীরের  কাটা স্থানে সেলাই দিতে গিয়ে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ  চলে যায়, পরে মোবাইলের টর্চলাইট এর আলোর মাধ্যমে সেলাই ও ড্রেসিং করা হয়, তাছাড়া দিনের বেলায়  ৭ থেকে ৮ বার লোডশেডিং হয়। এ সময় গরমে আরও অসুস্থ বোধ করে সাধারণ রোগীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আহসান হাবীব বলেন হাসপাতালে একটি বড় জেনারেটর তা নষ্ট। ভালো করলে তা আবার নষ্ট হয়। এখন জেনারেটর মেরামত করতে যে খরচ হবে সেক্ষেত্রে নতুন জেনারেটর ক্রয় করাই উত্তম হবে । বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতে আইপিএস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তা দিয়ে সমস্ত হাসপাতাল কভার করা সম্ভব হয় না।

 

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিদ্যুৎ গেলে রোগীদের হাসফাসঃ টর্চ -মোবাইল জ্বালিয়ে চিকিৎসা সেবা

৩০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top