
এমএফএইচ রাজু | ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর। চলতি বছরের শুরু থেকে জেলাটিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এরই মধ্যে জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ডেঙ্গু প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩৪১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২৪ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৭ জন রোগী। এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সবাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বর্তমানে বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার তুলনায় বেশি। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৭৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে সারাদেশেও ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন চারজন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে।
ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইব্রাহিম মোল্যা বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। পিরোজপুর এলাকায় অনেক নারকেল ও সুপারি গাছ রয়েছে। এসব গাছ কেটে ফেলার পর অবশিষ্ট গোড়ায় পানি জমে থাকতে পারে, যা এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য প্রজননস্থলে পরিণত হয়। তাই গাছের গোড়াসহ আশপাশের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে৷
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ এবং হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইনডোর, ওপিডি ও জরুরি বিভাগে আসা রোগী ও স্বজনদের স্বাস্থ্য শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।