
আজ পহেলা সেপ্টেম্বর
বিশ্ব চিঠি দিবস
প্রিয়,
জানি না এই দীর্ঘ চিঠি যখন তোমার হাতে পৌঁছাবে, তখন তোমার শহরের আকাশ মেঘলা নাকি রৌদ্রকরোজ্জ্বল। শুধু জানি, আমার ভেতরের আকাশটায় আজ নীরব শ্রাবণ নেমেছে। চিঠি লেখার এই বিশেষ দিনে, পৃথিবীর সব কোলাহল পেরিয়ে আমার ক্লান্ত আত্মা শুধু তোমার কাছেই একটু আশ্রয় চায়-যদিও আমি জানি, এই আশ্রয় আমার জন্য চিরকাল অপাঙ্কতেও, অলীক।
তোমাকে কোনো দিন নিজের করে পাব না, এই নির্মম সত্যটা আমার জীবনের প্রতিটা নিশ্বাসের মতো সত্য। আমাদের পথ দুটো কোনো এক অদৃশ্য বিধানের টানে সমান্তরাল থেকে গেছে, কোনো দিন এক বিন্দুতে এসে মিলবে না। কি অদ্ভুত তাই না? এই অসম্ভবকে জেনেও, শূন্যতার দেয়াল আঁকড়ে ধরে তোমাকে এক অন্ধ, উন্মত্ত প্রেমে ভালোবেসে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো নিস্তার নেই। এ যেন এক অদ্ভুত নীরব আত্মদহন, যেখানে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার মাঝেও এক পরম পবিত্রতা লুকিয়ে থাকে।
আজকের এই বিষাদময় ক্ষণে সৃষ্টিকর্তার দরবারে দুহাত তুলে আমি কেবল একটি প্রার্থনাই করি-এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যত দুঃখ, যত বিষাদ, যত যন্ত্রণা আর আঘাত আছে, তার সবটুকু যেন আমার বিধিলিপিতে লিখে দেওয়া হয়। বিনিময়ে তোমার ভাগ্যে জমা হোক পৃথিবীর সমস্ত আলো, সমস্ত হাসির প্রলেপ। তোমার চলার পথে যদি কখনো কোনো কাঁটা ফোটে, তার রক্তক্ষরণ যেন আমার বুকে এসে থামে। তুমি ভালো থেকো; আমার সমস্ত অপূর্ণতা, বিষ আর কান্না দিয়ে হলেও তুমি সুখে থেকো।
পাওয়া না-পাওয়ার এই করুণ বেদনায় আমার জীবন হয়তো এক দীর্ঘশ্বাসের গল্প হয়েই থেকে যাবে। কিন্তু জেনে রেখো, না-পাওয়াটাই ভালোবাসার শেষ কথা নয়; কোনো কোনো ভালোবাসা না পাওয়ার মধ্য দিয়েই অমরত্ব খুঁজে নেয়। জীবনের শেষ বিকেলের আলো যখন নিভে আসবে, তখনও আমার এই হাহাকারপূর্ণ হৃদয় তোমার মঙ্গল কামনায় নীরব জপমালা গুনে যাবে।
ইতি,
তোমার এক অবুঝ অভাগী,
০১.০৯.২০২৬ খ্রি. @ইয়াসমিন অজান্তা।
