
এম আব্দুর রাজ্জাক,স্টাফ রিপোর্টার –
সোমবার (১২ অক্টোবর ) বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।
সভায় মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধচিত্র এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় মামলা যথাযথভাবে রুজু, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন, নির্ভুল পুলিশ রিপোর্ট দাখিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল ও আসামি গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মহানগরীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধ, অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি জোরদার করে জুয়া প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ কমিশনার।
সভায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে জনগণের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং আইজিপি মহোদয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী থানাগুলোকে ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জিডি ও ইউডি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আন্তরিক, জনবান্ধব ও সেবামূলক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে মহানগরীর পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজার আগে, পূজা চলাকালীন ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন পুলিশ কমিশনার। এ লক্ষ্যে পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আগাম তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় একাকী বসবাসকারী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের খোঁজখবর রাখা এবং ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নজরদারি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেপ্টেম্বর- ২০২৬ মাসের অপরাধ ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান:
মাদকবিরোধী অভিযানে সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৮৮.৭০ গ্রাম হেরোইন, ৭ কেজি ৪২১ গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ২৮৬ পিস ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৪৮৮ বোতল অ্যালকোহল এবং ৪৬.২৫০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ১৬১টি মামলা রুজু করা হয় এবং ২১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিধান অমান্যকারী বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ২ হাজার ১০৮টি প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন থানার মামলায় বিজ্ঞ আদালত সামারি ট্রায়ালের (সংক্ষিপ্ত বিচার) মাধ্যমে মোট ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের অভিযানে মোট ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
সভায় মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার।
সভায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, সকল উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং থানার অফিসার ইনচার্জগণ উপস্থিত ছিলেন।