
মেনহাজুল ইসলাম তারেক,
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় (৫৫) হত্যার ঘটনায় দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আশিকুজ্জামান ওরফে আলো মিয়া (৩৫) এবং তার ভাই আসাদুজ্জামান (৩২)। তাঁদের বাড়ি উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আশিকুজ্জামানকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের চক সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি একই উপজেলার সুখদেবপুর এলাকায়। নির্মাণ কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ-পুলিশ জানায়, পার্বতীপুরের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে প্রয়াত আজিজুল হকের বাড়িতে নির্মাণ কাজের পারিশ্রমিক, ইউক্যালিপটাস গাছের গুঁড়ির হিসাব এবং শ্রমিকদের মজুরি বণ্টন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ছাড়া বাড়ির পাশের রাস্তার জমি নিয়েও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বিরোধ চলছিল। নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেনের সঙ্গে আজিজুল হকের ছেলে আল রোমানের বিরোধ দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে উপস্থিত হন শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়।
ধান ক্ষেতে নিয়ে মারধরের অভিযোগ-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের একপর্যায়ে মনোরঞ্জন রায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। আশিকুজ্জামান তাঁকে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। প্রাণ বাঁচাতে মনোরঞ্জন রায় সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধাওয়া করা হয়। পরে ধানখেতে পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে মারধর করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক-পুলিশ আরও জানায়, প্রায় ১৩ বছর আগে আজিজুল হকের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পরিবারের দেখাশোনা করতেন মনোরঞ্জন রায়। ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিরোধ মেটাতে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জে/এ
